EduVision Study Point
#নেতাজী_ও_হিটলারের_সাক্ষাৎকার
|| ২৮ শে মে ১৯৪২ ||
জার্মানির সর্বাধিনায়ক 'অ্যাডলফ হিটলার' এর সাক্ষাৎ করতে দেশত্যাগী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু নির্ধারিত দিনক্ষনের একদিন আগেই বিশেষ বিমানে করে বার্লিন থেকে সুদূর প্রাশিয়ার রাস্টেনবার্গ এসে পৌঁছালেন। বিমানে সঙ্গী হিসেবে আসলেন কেপলার ও অ্যাডাম ট্রট। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিমানপোতে হাজির ছিলেন রিবেনট্রপ। 'ফুয়েরার' এর বিশেষ দূত মার্টিন বোরম্যানও ছিলেন তার সাথে। আর ছিলেন কয়েকজন জার্মান অফিসার। বিমান থেকে অবতরণের সাথে সাথেই নেতাজীর সাথে সর্বপ্রথমে পরিচয় ঘটলো অধ্যাপক ওয়েস্টের।
অধ্যাপক প্রশ্ন করলেন ---
"মিঃ বোস, আপনি তিলকের লেখা সদ্য প্রকাশিত 'গীতা রহস্য' পড়েছেন ?"
'নেতাজি' কথাগুলো শুনে দাঁড়িয়ে পরে তার দিকে তাকালেন। অধ্যাপক বলেই চলেছেন ---
"মিঃ বোস, আমি আজও 'মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়' এ পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করি। 'কালিদাস', 'ভবভূতি'র মত আপনার দেশের মহান মানুষদের লেখা আমার বাড়িতে সযত্নে রাখা আছে। 'লোকমান্য তিলক' আমার খুব প্রিয়।"
'নেতাজি' বেশ কৌতুহলের সুরেই জিজ্ঞাসা করলেন ---
"আপনি এখানে কি করছেন ?"
অধ্যাপক উত্তর দিলেন ---
"'হিমলার' আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওর দৌলতেই আমি এখানে ..."
'নেতাজি' কতকটা আশ্বস্তের সুরে বলে উঠলেন ---
"ভালো লাগলো যে আপনার মত একজন বিদ্বান 'ফুয়েরার' এর ঘনিষ্ঠ।"
রিবেনট্রপের তত্ত্বাবধানে একটি ব্যাংকয়েটে 'নেতাজি'র রাত্রিবাসের বন্দোবস্ত হল।
|| ২৯ শে মে ১৯৪২ ||
'নেতাজি' অ্যাডাম ট্রটের সাথে মোটরে চেপে 'ফুয়েরার' এর সাথে দেখা করতে 'কালফাস চেজ নেজ' মিলিটারি বেসক্যাম্পে হাজির হলেন।
'হিটলার' বিদেশ মন্ত্রী 'রিবেনট্রপ', রাষ্ট্রদূত 'হাভেলস' ও ব্যক্তিগত দোভাষী 'স্মিড' এর সাথে নিজের অফিসঘরেই ছিলেন।
'নেতাজি' অ্যাডাম ট্রটের সাথে দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকতেই 'হিটলার' এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করে স্বাগত জানালেন ---
"'আজাদ হিন্দ' এর নেতা !"
এরপর সবাই নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করলেন।
'নেতাজি' উঠে দাঁড়িয়ে প্যাকেটে মোড়া একটি বাক্স উপহার হিসাবে 'হিটলার' এর হাতে তুলে দিলেন। উপহার পেয়ে খুশি হয়ে 'হিটলার' তক্ষুনি প্যাকেটটা ছিঁড়ে বাক্সটা খুলে ফেললেন। দেখলেন বাক্সের মধ্যে তামাটে রঙের এক আদুল গায়ের মূর্তি রাখা আছে।
পদ্মাসনে বসে থাকা মূর্তিটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে চিনতে না পেরে 'হিটলার' জিজ্ঞাসা করলেন ---
"কে এই কুস্তিগীর ?"
'নেতাজি' উত্তর দিলেন ---
"ভগবান বুদ্ধ। বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা। ইনিই শান্তি ও অহিংসার প্রবর্তক ও প্রচারক।"
'হিটলার' তখন একদৃষ্টে মুর্তিটার দিকে চেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ---
"শান্তি ? অহিংসা ? তাহলে ইনি 'মিঃ গান্ধী'র সিনিয়র না জুনিয়র ?"
'নেতাজি' শান্তভাবে জবাব দিলেন ---
"মহামহিম! ইনি আমাদের সকলের থেকে অনেক সিনিয়র।"
হিংসার পূজারীকে 'অহিংসার প্রতীক' উপহার দেওয়া ---
সত্যিই 'সুভাষকে বোঝা শক্ত...'
|| জয় হিন্দ ||
✍️: অভিষেক হালদার।

মন্তব্যসমূহ